ঘুরে আসুন কুমিল্লা

পূব আকাশে আলো ঝলমলে রোদ নিয়ে সূর্যমামা হাজির হওয়ার সাথে সাথেই আমরা ক’জন পা রাখলাম কুমিল্লা ইপিজেড এ । অসম্ভব সুন্দর এ জায়গাটি ঘুরতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে । শহর বলতে যদি আপনার ধারনা থাকে ইট পাথরে ঘেরা দেয়াল তাহলে কুমিল্লা শহরে এসে সেই ধারনা পাল্টে যাবে । একবার ভাবুনতো একটা দিঘি যার চারপাশঘেরা রাস্তা আর দালানকোঠা রাতের বেলায় সাঝবাতিয় ঘেরা শহর, রাস্তা, বা পুকুর….. ঠিক এরকম দৃশ্য দেখতে চাইলে কুমিল্লা শহরে আসতে পারেন । শহরের প্রতিটা এলাকাতেই ছোট/বড় একটা করে দিঘি রয়েছে । নানুয়া দিঘি, মৌলভী দিঘি, রানীর দিঘি, ঘুধির দিঘি, সূর্মা দিঘি, জগন্নাথ দিঘি, তাল দিঘি, আম দিঘি, লাউ দিঘি, এরকম অসংখ্য ছোট বড় দিঘিড় উপর ভেসে বেড়াচ্ছে কুমিল্লা শহর । দিঘির স্বচ্ছ পানি আপনাকে আকৃষ্ট করবে, আকৃষ্ট করবে রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ কিংবা পুরোনো ধাঁচের দালানগুলো । ঘন সবুজের ছোয়া পেতে চলে যেতে পারেন BARD, যেখানে সবুজ গাছের কূল ঘেসে দাড়িয়ে আছে “নীলাচল পাহাড়” । বার্ডের কাছে এবং বার্ড থেকে “লালমাই” পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এতিহ্যের নিদর্শন নিয়ে দাড়িয়ে আছে “বৌদ্ধ বিহার”। এর পাশে ঘন শাল গজারির বন আছে এবং এর পাশের গ্রামের নাম শালবনপুর তাই এটি “শালবন বিহার” নামেও পরিচিত । বৌদ্ধসভ্যতার ইতিহাস ও এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে কাছ থেকে দেখতে শালবন বিহারের অদূরে “ময়নামতি জাদুঘরে” ঢুঁ মারতে পারেন ।।

ঘন সবুজ বনের ভীড়ে আর উচু নীচু পাহাড়ের উপর জায়গা দখল করে আছে “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়” । ফেরার পথে পাবেন “কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ”….আছে কুমিল্লার অক্সফোর্ড খ্যাত “ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ”…আছে “ধর্মসাগর দিঘি” যার মায়াটানে অসংখ্য মানুষ দিঘির পাড়ে ভিড় জমায়…..

কুমিল্লার আদি নাম ত্রিপুরা, যেখানে ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেতা মহাত্মাগান্ধী এসেছিলেন । হুমায়ুন আহমেদ এবং আমাদের জাতীয় কবি এ শহরে অনেক সময় কাটিয়েছেন । এখানকার মানুষ ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জীবন দিয়েছেন । এখানে বিভিন্ন দেশের সৈন্যদের কবর ও ওয়ার সেমেট্রি রয়েছে । রয়েছে কুটিলা মুড়া, চন্দ্রমুড়া, রূপবন মুড়া, ইটখোলা মুড়া, সতের রত্নমুড়া, রানীর বাংলার পাহাড়, ভোজ রাজদের প্রাসাদ, আনন্দবাজার প্রাসাদ, আনন্দ বিহার….. এরকম শত শত ইতিহাস ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে বহন করে এগিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা ।।।।।____ও____ এই শহরে মাতৃভান্ডার নামে বিখ্যাত একটা দোকান আছে । দোকানটিতে কি যেন একটা খাবারের জিনিস পাওয়া যায় । লাইইইন ধরে কিনতে হয়…. আপনি লাইনের শেষে থাকলে নাও পেতে পারেন । ইহার নাম র-স-ম-লা-ই i! রসমলাই নাম শুনলেই নাকি মুখে পানি আসে,,,, উমমমম…….. খেয়েছেন কখনো……….????

 

[কুমিল্লার প্রেমে পড়ে লিখেছিলাম, জুন-২০১৫]

রচনাঃ ডিম

ভূমিকাঃ
ডিম অতি রুচিশীল পরিচিত সহজলভ্য এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার । বাঁশের পর মানুষ যে খাবারটি বেশি খায় তার নাম হচ্ছে ডিম । অনেকের কাছে ইহা আন্ডা নামেও পরিচিত ।

.

জন্মঃ

ডিমের জন্ম কবে কোথায় তা এখনো বিতর্কিত । প্রাণীজগতের অনেকেই ডিম পাড়ে । পার্থক্য হচ্ছে কেউ খাঁচায় বসে ডিম পাড়ে আবার কেউ পরীক্ষার হলে বসে ডিম পাড়ে । তবে ডিম না পেরেও ডিম পাড়ার সফল কৃতিত্ব একমাত্র ঘোড়ার-ই আছে !!

.

ডিম পরিচিতিঃ

ডিমের আকার গোলও না, লম্বাও না, চ্যাপ্টাও না । ডিমের গঠন বাইরে খোসা ভিতরে কুসুম । ডিম ভাঙলে কুসুম হলুদও হতে পারে কমলাও হতে পারে । খোসার রং সাদা ধূসর বা লাল হতে পারে । তবে পরীক্ষার খাতায় লাল রঙের যে ডিম পাওয়া যায় তা একেবারে ফাঁপা, ভিতরে কোন কুসুম থাকে না ।

.

ব্যবহারঃ

বিস্কুট, কেক, রুটি, বন, পাউরুটি, মিষ্টি…. ডিম না থাকলে এরকম হাজার প্রকার খাদ্যসামগ্রী তৈরি হত না ! দুনিয়ার বেকারিগুলো অচল হয়ে যেত,, ফাস্ট ফুড বলতে কোন শব্দ ডিকশনারীতে থাকত না ।

.

অপকারিতাঃ

ডিমের কোন অপকারিতা নেই । ডিম খেয়ে মানুষের এলার্জি হয়ে গাঁ চুলকাতে চুলকাতে হাসপাতালে যায়, এতে ডাক্তারদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আসে এবং ঔষধ কোম্পানিগুলোও বেশ লাভবান হয় । অতিরিক্ত ডিম খেয়ে স্ট্রোক করে মারা যাওয়ায় জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে ।

.

উপকারিতাঃ

ডিমের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না । কত অ-সুন্দরী আপু মাথায় চুলে মুখে ডিম ভেঙে দিয়ে সুন্দরী(!) হয়েছে তার হিসাব নেই । আর আমাদের মত ব্যাচেলরদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে ডিম । তরকারি ভাল লাগেনি__সমাধান ডিম ! বুয়া আসেনি___ সব চিন্তা ঝেরে সমাধান মিলবে ডিমে !

.

বংলাদেশে ডিমের চাহিদাঃ

কুমিল্লা, খুলনা,বরিশাল ও যশোরে ডিমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি । “দৈনিক ডিমের খবরের” তথ্য অনুযায়ী এবছর বাংলাদেশে ৮কোটি ডিমের অভাব দেখা দিয়েছে । বাংলাদেশ থেকে মুরগী পাচার হয়ে যাওয়ায় ডিমের অভাব দেখা দিয়েছে__এই খবর মিডিয়ার অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন ডিম পরিবহন মন্ত্রী ! তিনি বলেছেন ডিম কমে যাওয়ার জন্য মুরগী দায়ী হবে কেন.? ডিম দেবে ডিমওয়ালা ! এদিকে ডিম মন্ত্রী বলেছেন ডিম পাড়ার সময় বিরোধীদল মুরগীর খাঁচা ধরে নাড়াচাড়া করায় মুরগী ডিম পারায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে । ডিম বিশেষজ্ঞদের দাবি “দিন দিন ব্যাচেলরদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিমের অভাব দেখা দিচ্ছে” তাই এ সমস্যার সমাধান করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব ব্যাচেলরদেরকে বিয়ে করাতে হবে l অন্যদিকে “আন্ডা বাঁচাও আন্দোলন কমিটি(আবাঁআক)” সারাদিন ডিম খেয়ে অনশন ও মানব বন্ধন শেষে এখন সদর ঘাটের গণ-বাথরুমের সামনে বদনা হাতে লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে ।

.

উপসংহারঃ

ব্যাচেলর রাজ্যে পৃথিবী ডিমময়…..

————————-

ডিমের রচনা লিখে স্যারকে দেখাতে গেলাম…

আমিঃ স্যার, ডিমের রচনাটা কেমন হয়েছে স্যার…?

স্যারঃ হুম…রচনা লিখছস…এইটা রচনা হইছে..ঘোড়ার ডিম হইছে ..!!

————————-

[ডিম দিবসের শুভেচ্ছা]